বাংলায় গরম বাড়ছে

    মহানগরের তাপমাত্রা আরও বাড়বে৷ বাতাসে জলীয়বাষ্প মিশে জনজীবন আরও দুর্বিষহ করে তুলবে৷ শুক্রবার এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর৷ কয়েকদিন ধরেই তাপপ্রবাহের কবলে দক্ষিণবঙ্গ৷ বাদ নেই উত্তরবঙ্গের মালদহ৷ চলতি বছরে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা৷ 
    ভোট প্রচারে নেমে রাজনৈতিক কর্মীদের নাজেহাল অবস্হা৷ স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের নাভিশ্বাস উঠেছে৷ তবে রাজ্য সরকার চ মে থেকে একমাসের জন্য স্কুলে গরমের ছুটি ঘোষণা করেছে৷ চিকিত্সকদের পরামর্শ প্রচুর জল খেতে হবে৷ সারাদিনে দুই থেকে তিনবার স্নান করতে হবে৷ ঠাণ্ডা পানীয় এবং জলের বোতল দেদার বিক্রি হচেছ শহরে৷ অস্বস্তি এড়াতে নাকে-মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছেন সবাই৷ কলকাতা যেন হঠাত্‍ মরুশহরে পরিণত হয়েছে৷ এপ্রিল-মে মাসে রাজস্হানের বিকানের, যোধপুর, জয়সলমের প্রভৃতি শহরে এমন দৃশ্য দেখা যায়৷   
    পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহ তুলনায় কম৷ তবে  কলকাতা যেন ফুটছে৷ শহরের তাপমাত্রা ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ স্বাভাবিকের তুলনায় যা পাঁচ ডিগ্রি বেশি৷ অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে৷  হাওয়া অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এই পরিস্হিতির তেমন কোনও উন্নতি হবে না৷ বরং রাজ্যের পরিমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ঢুকতে শুরু করায় অস্বস্তি আরও বাড়বে৷ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা তৈরি হয়েছে৷ যার জেরে শুকনো গরম থেকে কিছুটা রেহাই মিললেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি অনুভূত হবে৷ তবে জলীয় বাষ্প ঢুকলেও কলকাতায় বৃষ্টির আপাতত কোনও সম্ভাবনা নেই৷ রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকা বিশেষ করে সুন্দরবনের কোনও কোনও এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি৷ মৌসম ভবন থেকে জানানো হয়েছে, এলনিনো এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ুর প্রভাবে চলতি বছর বর্ষার মরশুমে দেশের গড় বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই কম হবে৷ 
    এদিন গরমের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে বিষ ঢেলেছে আর্দ্রতা৷ এই গরম সহ্য করতে না পেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে বসিরহাটের সাঁইপালা গ্রামে মৃত্যু হয়েছে এক চিকিত্সকের৷ মৃত ব্যক্তির নাম অলোক ঘোষ (৬০)৷ এই এলাকার সন্দেশখালি দু'নম্বর ব্লক-সহ হিঙ্গলগঞ্জের উপকূল অঞ্চলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিলাবৃষ্টি হয়৷ বজ্রপাতে এক যুবক মারা যায়৷ কালবৈশাখীতে গবাদিপশুদের ক্ষতি হয়েছে৷ সামশেরনগর, হেমনগর ও যোগেশগঞ্জে কুড়ি-পঁচিশটি কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ খেতের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ রামপুর বাজারের কাছে বজ্রপাতে আবু জাফর হালদার (৩৬) নামে এক যুবক মারা গিয়েছেন৷ জীবনতলা থানা এলাকার এই বাসিন্দা শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন৷ অপর একটি বজ্রপাতের ঘটনায় রামপুরে দুই শিশুকন্যা-সহ এক মহিলা জখম হয়েছেন৷ তীব্র গরমের পাশাপাশি এভাবে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় এদিন বিপাকে পড়েন রাজ্যের ছয় লোকসভা কেন্দ্রের ভোটাররা৷ এদিন মহানগরের বাতাসে জলীয় বাষ্পের সর্বোচচ পরিমাণ ছিল ৮৩ শতাংশ৷  যার জেরে বাড়িতে বা অফিসে বসেও গরমে ছটফট করছেন মানুষ৷

    0 comments:

    Post a Comment

    Read more at WWW.BANGLARMUKHONLINE.TK

    A forenight newspaper. Powered by Blogger.

    Latest Tweets